মাঠে চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা থাকলেও ড্রেসিংরুমে কি দীর্ঘশ্বাস? 🏏⚠️


বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) বরাবরই মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কের জন্য বেশি আলোচনায় থাকে। সম্প্রতি "Non-payment woes" বা পারিশ্রমিক বকেয়া রাখার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে, যা টুর্নামেন্টের পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) 

মানেই চার-ছক্কার ধুমধাড়াক্কা আর গ্যালারি মাতানো উন্মাদনা। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে প্রতি বছরই একটি কালো অধ্যায় ফিরে ফিরে আসে—তা হলো ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের বকেয়া পারিশ্রমিক বা নন-পেমেন্ট সমস্যা। ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও যখন এই একই সংকটের খবর শোনা যায়, তখন বিপিএলের ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

১. কেন বারবার ফিরে আসে এই সংকট?

বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা শুরু থেকেই বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব: কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি টেকসই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াই দল গঠন করে।

স্পন্সরশিপের অনিশ্চয়তা: টুর্নামেন্ট শুরুর শেষ মুহূর্তে স্পন্সর পাওয়ায় অনেক সময় সঠিক সময়ে ফান্ড ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিসিবির কঠোরতার ঘাটতি: বিসিবি ব্যাংক গ্যারান্টির নিয়ম রাখলেও, অনেক সময় তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয় না।


২. ক্রিকেটারদের ওপর এর প্রভাব

একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়ের একটি বড় উৎস। যখন চুক্তির অর্ধেক টাকাও সময়মতো পাওয়া যায় না, তখন খেলোয়াড়দের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে:

দেশি ও তরুণ খেলোয়াড়দের সংকট: তারকা খেলোয়াড়রা অনেক সময় তাদের টাকা আদায় করে নিতে পারলেও, ঘরোয়া ক্রিকেটের তরুণরা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেন না।


বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাগ্রহ: পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতা থাকলে বিশ্বমানের বিদেশি খেলোয়াড়রা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আসতে দ্বিধাবোধ করেন, যা টুর্নামেন্টের মান কমিয়ে দেয়।


৩. সমাধানের পথ কী হতে পারে?

বিপিএলকে যদি আইপিএল বা পিএসএলের মতো দীর্ঘমেয়াদী সফল লিগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তবে কিছু কঠোর পদক্ষেপ জরুরি:

শতভাগ ব্যাংক গ্যারান্টি: দল নিবন্ধনের আগেই খেলোয়াড়দের মোট পারিশ্রমিকের সমপরিমাণ টাকা বিসিবির কাছে জমা রাখা বাধ্যতামূলক করা।

রেভিনিউ শেয়ারিং মডেল: ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যাতে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, সেজন্য সম্প্রচার স্বত্ব ও টিকিট বিক্রির লভ্যাংশ তাদের সাথে শেয়ার করা।

দীর্ঘমেয়াদী মালিকানা: প্রতি বছর মালিকানা পরিবর্তন না করে কমপক্ষে ৫ বছরের জন্য চুক্তি করা, যাতে তারা বিনিয়োগের সুরক্ষা পায়।


উপসংহার

বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই "নন-পেমেন্ট" বা বকেয়া রাখার সংস্কৃতি টুর্নামেন্টের মর্যাদাকে বারবার ধূলিসাৎ করছে। মাঠের লড়াই যতটা আকর্ষণীয়, মাঠের বাইরের পেশাদারিত্বও যদি ততটা উন্নত না হয়, তবে বিপিএল তার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে না। বিসিবিকে এখন সময় এসেছে আরো কঠোর ও দূরদর্শী হওয়ার।

#BPL2026 #BangladeshCricket #BCB #CricketNews #BPLWoes #FinancialCrisisInSports #BPLUpdate

Previous Post